Skip to content
ক্রিকেট ভক্ত
Back to Archive
Briefing

টি২০ ম্যাচ দেখার আগে পড়ুন ২০২৬-এর ৭ নিয়মের বিশ্লেষণ

টি২০ ক্রিকেটে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ২০ ওভার ব্যাট করে, আর যে দল বেশি রান তোলে সেই জিতে। ক্রিকেট ভক্ত-এর বিশ্লেষণে সাতটি নিয়ম সবচেয়ে বেশি ম্যাচের গতি ঠিক করে দেয়: প্রথম ৬ ওভারের পাওয়ারপ্লেতে ৩০ গজের....

৪ অক্টোবর, ২০২৬ 5 min read
টি২০ ম্যাচ দেখার আগে পড়ুন ২০২৬-এর ৭ নিয়মের বিশ্লেষণ

টি২০ ম্যাচ দেখার আগে পড়ুন ২০২৬-এর ৭ নিয়মের বিশ্লেষণ

টি২০ ক্রিকেটে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ২০ ওভার ব্যাট করে, আর যে দল বেশি রান তোলে সেই জিতে। ক্রিকেট ভক্ত-এর বিশ্লেষণে সাতটি নিয়ম সবচেয়ে বেশি ম্যাচের গতি ঠিক করে দেয়: প্রথম ৬ ওভারের পাওয়ারপ্লেতে ৩০ গজের বৃত্তের বাইরে সর্বোচ্চ দুইজন ফিল্ডার, ৭ থেকে ২০ ওভারে সর্বোচ্চ পাঁচজন, প্রতি বোলারের জন্য সর্বোচ্চ ৪ ওভার, ফলে অন্তত পাঁচজন বোলার লাগে। নো-বলের পর ফ্রি হিট মেলে, আর সময়ের নিয়ম ভাঙলে ফিল্ডিং দলকে শাস্তি পেতে হয়। ওয়াইড ও নো-বলে একটি অতিরিক্ত রান এবং একটি বাড়তি বল যোগ হয়, ফলে একটি ভুল ওভারের হিসাব পাল্টে দিতে পারে। টাই হলে সুপার ওভারে ফল নির্ধারণ হয়। ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে যাত্রা শুরু করা এই ফরম্যাট ২০০৫ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ পায়। সময়সীমা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ৭৫ ও ৮৫ মিনিটের ভিন্ন তথ্য আছে, তাই ম্যাচ দেখার আগে নির্দিষ্ট সিরিজের প্লেয়িং কন্ডিশন যাচাই করুন, কারণ ইনিংসের সময়ের হিসাবই ওভার-রেটের শাস্তি ঠিক করে।

আপনি কি সত্যিই মনে করেন টি২০ মানে শুধু চার-ছক্কার হুটোপুটি? ভুল। ১২০ বলের এই খেলায় প্রতিটি বলের পেছনে হিসাব আছে, আর হিসাব না জানলে স্কোরবোর্ড আপনাকে ঠিক সেভাবেই বোকা বানায়, যেভাবে চায়ের দোকানের সেই স্বঘোষিত বিশেষজ্ঞকে বানায়। একটি নো-বল, একটি ভুল ফিল্ড সাজানো কিংবা একটি অপচয় হওয়া ওভার পুরো সমীকরণ উল্টে দিতে পারে। আমি বহু ম্যাচ দেখেছি, বহু প্ল্যাটফর্মে। চটকদার বিজ্ঞাপনে আমি নড়ি না; নিয়মে নড়ি, কারণ নিয়মই ফল ঠিক করে। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড ২০০৩ সালে টুর্নামেন্টটি চালু করে, ২০০৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি অকল্যান্ডে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে প্রথম আন্তর্জাতিক টি২০ হয়, আর ২০০৮ সালে আইপিএল ফরম্যাটটিকে বিশ্বমঞ্চে তোলে; বিস্তারিত ইতিহাস উইকিপিডিয়ার টুয়েন্টি২০ পাতায় পাবেন। এই লেখায় তিনটি প্রচলিত ভুল ধারণা ভাঙব, তারপর বলব কোনটা কাজে লাগে আর কোনটা ফেলে দেওয়ার মতো। ক্রিকেট ভক্ত-এ আমরা ম্যাচ পর্যালোচনা, খেলোয়াড় পরিসংখ্যান ও BPL কভারেজ নিয়ে লিখি, তাই নিয়মের ছোট ফাঁকগুলোই আমাদের চোখে আগে পড়ে। ভুল ধরা পড়লে দায় আপনার, লজ্জাও আপনার। বিশ্বাস করুন বা না করুন — আমি করি।

crowded cricket stadium under floodlights during a T20 match, batter mid-swing as fielders crouch in the infield

নিয়ম বুঝে ম্যাচ দেখতে চাইলে নিচের বোতামে সব একজায়গায় পাবেন।

আরও জানুন

মিথ ১: যেকোনো বোলার যত খুশি ওভার করতে পারেন — ভুল প্রমাণিত

সাধারণ ধারণা হলো, ম্যাচ গরম হলে অধিনায়ক সেরা বোলারকে দিয়ে ওভারের পর ওভার করিয়ে নেবেন। টি২০-তে এটা সম্ভব নয়। আইসিসির নিয়মে একজন বোলার সর্বোচ্চ ৪ ওভার করতে পারেন। ২০ ওভারের ইনিংসে ৪ × ৫ = ২০, অর্থাৎ অন্তত পাঁচজন বোলার ব্যবহার করতেই হবে। এর বেশি জনকে ব্যবহার করতে চাইলে অধিনায়ক স্বাধীন, কিন্তু কোটার ঊর্ধ্বসীমা সবার জন্য এক। এই নিয়মের ফলে একজন তারকা পেসার নিজের চার ওভার কোথায় খরচ করবেন, সেটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় কৌশলগত সিদ্ধান্ত। কেউ পাওয়ারপ্লেতে দুই ওভার আর শেষ দিকে দুই ওভার করান; কেউ চার ওভার একটানা শেষ করে ফেলেন। কোনটা ঠিক, তা নির্ভর করে পিচ, শিশির আর ব্যাটারের শক্তির ওপর। অভিজ্ঞ দর্শক তাই স্কোরকার্ডে শুধু রান নয়, প্রতিটি বোলারের বাকি ওভারের সংখ্যাও গুনে রাখেন। আপনি যদি এটা না করেন, তাহলে ম্যাচের অর্ধেক দেখছেন। কড়া শোনালো? বিশ্বাস করুন বা না করুন — আমি করি।

এবার এমন একটি তথ্য, যা বেশিরভাগ গাইড এড়িয়ে যায়। বৃষ্টিতে ইনিংস ছোট হলে বোলারের কোটা আর ৪ থাকে না। আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী তা হয় ইনিংসের মোট ওভারের পাঁচ ভাগের এক ভাগ, ভগ্নাংশ হলে উপরের পূর্ণসংখ্যায় তোলা হয়। ১০ ওভারের ইনিংসে সর্বোচ্চ ২ ওভার, ১৫ ওভারে ৩ ওভার, আর ১৬ ওভারে ৩.২ বাড়িয়ে ৪ ওভার। ৫ ওভারের ম্যাচে প্রত্যেক বোলার মাত্র ১ ওভার করতে পারেন। ধরুন রাত ১০টায় বৃষ্টি থামল আর ১২ ওভারের ইনিংস ঠিক হলো: তখন প্রতিজন সর্বোচ্চ ৩ ওভার করবেন (১২ ÷ ৫ = ২.৪, উপরে ৩)। তাই ‘সেরা বোলারের শেষ ওভার’ ধরে হিসাব কষা এখানে ভুল। হিসাব সবসময় বর্তমান ইনিংসের দৈর্ঘ্য ধরে করতে হয়। এই খুঁটিনাটি জানা থাকলে ডিএলএস-নির্ভর ম্যাচে আপনি বাকিদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকবেন, আর ধারাভাষ্যকারের আগেই বুঝে ফেলবেন কার ওভার বাকি আছে।

[Internal Link: টি২০ বোলিং কৌশল ও ওভার বণ্টনের গাইড]

মিথ ২: ফ্রি হিটে আউট হওয়ার ভয় নেই — আংশিক সত্য

ফ্রি হিট মানে ব্যাটার নিশ্চিন্তে ব্যাট ঘোরাতে পারেন, কথাটা অর্ধেক ঠিক। নো-বলের পরের বলটি ফ্রি হিট; তাতে বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ বা স্টাম্পিং হয় না। কিন্তু রান আউট এবং মাঠে বাধা দেওয়ার মতো আউট তখনও সম্ভব। সূত্রগুলো এই দুটি ব্যতিক্রমের কথাই বলে, আর এমসিসির ক্রিকেট আইন থেকেও একই কাঠামো মেলে। আরেকটি ভুল ধারণা হলো, বল স্টাম্পে লাগলেই সব শেষ। না। বল তখনও লাইভ। ব্যাটার দৌড়ে বাই হিসেবে রান নিতে পারেন, আর সেই রান স্কোরে যোগ হয়। বোলারের জন্য শিক্ষাটা উল্টো: ফ্রি হিটে ব্যাটার আক্রমণ করবেনই, তাই স্টাম্প-লাইনের ইয়র্কার বা ধীরগতির বল ঠিক ততটাই কার্যকর, শুধু লক্ষ্য উইকেট নয়, রান আটকানো। ব্যাটারও একটি জিনিস মনে রাখবেন: ফ্রি হিটে ঝুঁকি কম, কিন্তু একটি উল্টোপাল্টা দৌড় আপনাকে ঠিক সেই রান আউটেই ফেলতে পারে। নিরাপদ মনে হলেই মানুষ অসতর্ক হয়, আর আমার চোখ সেই মুহূর্তটাই খোঁজে।

ফ্রি হিটের বাইরেও অতিরিক্ত রানের নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াইড ও নো-বলে ব্যাটিং দল একটি রান পায় এবং বোলারকে একটি বাড়তি বল করতে হয়। অর্থাৎ ৬ বলের ওভার সহজেই ৭ বা ৮ বলে গড়ায়, আর বোলারের ৪ ওভারের কোটা থেকে বৈধ বল ঠিকই কমে। পেনাল্টি রানও টি২০-তে বেশি চোখে পড়ে। ফিল্ডার ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যাপ বা পোশাক দিয়ে বল আটকালে, কিংবা ভুয়া ফিল্ডিং করে ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করলে ৫ পেনাল্টি রান যোগ হয়। উদ্দেশ্যমূলকভাবে সময় নষ্ট করলে আম্পায়াররাও ব্যাটিং দলকে ৫ রান দিতে পারেন। ছোট সংখ্যা, কিন্তু ২০ ওভারের খেলায় ৫ রান মানে অনেক সময় এক ওভারের পুরো আক্রমণের সমান। তাই পরের বার কেউ বলবে ‘এসব ফালতু নিয়ম’, তাকে হেসে জিজ্ঞেস করুন, শেষ বলে ৫ রান কম পড়লে সে কী বলত।

umpire signalling a no-ball with arm extended while a batter prepares for the free hit delivery

নিয়মগুলো আরও গুছিয়ে পেতে চাইলে একটু দেখে নিন।

আরও জানুন

মিথ ৩: সময় পার হলেই সরাসরি ছয় রানের জরিমানা — সম্পূর্ণ মিথ্যা

একটি জনপ্রিয় সূত্রে লেখা আছে, নির্ধারিত সময়ে শেষ ওভার শুরু না করতে পারলে ব্যাটিং দল ছয় রান পায়। আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটা সঠিক নয়। সময়সীমার সংখ্যা নিয়েও সূত্রগুলো একমত নয়: কেউ বলে ইনিংসের জন্য ৭৫ মিনিট, কেউ বলে ৮৫ মিনিট। হিসাবটা দেখুন: ৭৫ মিনিটে ২০ ওভার মানে প্রতি ওভারে গড়ে ৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড, আর ৮৫ মিনিটে প্রায় ৪ মিনিট ১৫ সেকেন্ড। পার্থক্যটা ৩০ সেকেন্ড হলেও এক ইনিংসে তা ১০ মিনিটের ফারাক, আর এই ফারাকেই ওভার-রেট বিতর্ক জন্মায়। বাস্তবে আইসিসির ধীর ওভার-রেট শাস্তি হলো ইনিংসের বাকি ওভারগুলোতে ৩০ গজের বৃত্তের ভেতরে একজন বাড়তি ফিল্ডার রাখা। এর সঙ্গে আছে স্টপ ক্লক: এক ওভার শেষ হওয়ার ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে পরের ওভার শুরু করতে হয়, দুইবার সতর্কতার পর তৃতীয়বার ব্যর্থ হলে ৫ পেনাল্টি রান। নতুন ব্যাটারকেও ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রস্তুত হতে হয়। অর্থাৎ ‘ছয় রান’ কথাটি সোজা বাদ দিন, আর সিরিজ ধরে ধরে প্লেয়িং কন্ডিশন মিলিয়ে নিন।

এই তথ্যের একটি ব্যবহারিক দিক আছে। ম্যাচের শেষ দিকে যদি ফিল্ডিং দল পিছিয়ে থাকে, বৃত্তের ভেতরে বাড়তি ফিল্ডার থাকায় বাউন্ডারি পাওয়া সহজ হয়, আর এটি স্কোরবোর্ডে ধরা পড়ে না। শুধু রান-রেট দেখে আপনি এটা মিস করবেন; ওভার-রেট দেখে ধরবেন। ছোট সংখ্যা, বড় প্রভাব। আর ভুলে যাবেন না, নিয়ম বদলায়। ২০২৬ সালের কোনো সিরিজে ট্রায়াল নিয়ম থাকতে পারে, তাই ম্যাচের আগে ১০ মিনিট সময় দিয়ে আইসিসির ঘোষণা পড়ে নেওয়া অভ্যাসে পরিণত করুন। আমি করি, কারণ আমি অনুমানে চলি না। আপনি কি চলেন? [Internal Link: ওভার-রেট ও স্টপ ক্লক নিয়মের বিস্তারিত ব্যাখ্যা]

পাওয়ারপ্লে আসলে কীভাবে কাজ করে?

পাওয়ারপ্লে হলো ইনিংসের প্রথম ৬ ওভার, যখন ৩০ গজের বৃত্তের বাইরে সর্বোচ্চ দুইজন ফিল্ডার রাখা যায়। ৭ থেকে ২০ ওভারে এই সংখ্যা বেড়ে সর্বোচ্চ পাঁচজন হয়। উদ্দেশ্য শুরুতেই ব্যাটারকে আক্রমণে উৎসাহ দেওয়া এবং বোলারের কৌশল পরীক্ষা করা। এই ছয় ওভারে ইনিংসের গতি সবচেয়ে দ্রুত বদলায়।

ছয় ওভার মানে ইনিংসের ৩৬টি বল, অর্থাৎ মোট ১২০ বলের ঠিক ৩০ শতাংশ। কিন্তু প্রভাব ৩০ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি, কারণ ভেতরে ফিল্ডার বেশি থাকায় ব্যাটার স্বাভাবিকভাবে উঁচু শটে ঝুঁকি নেন, আর বোলার ভুল করলে সরাসরি বাউন্ডারি দেন। BPL-এর মতো লিগে দর্শকের চোখ প্রায়ই প্রথম ছয় ওভারেই আটকে থাকে, কারণ ওপেনারদের এক-দুটি ছক্কাই পুরো ম্যাচের সুর বেঁধে দেয়। পাওয়ারপ্লে-পরবর্তী পর্বে চিত্র উল্টো: মাঝের ওভারগুলোতে স্পিনাররা ঢোকেন, ফিল্ড ছড়িয়ে পড়ে, আর রান তোলা কঠিন হয়। সংক্ষেপে নিয়মটা এভাবে মনে রাখুন:

  • ওভার ১ থেকে ৬: বৃত্তের বাইরে সর্বোচ্চ ২ জন ফিল্ডার
  • ওভার ৭ থেকে ২০: বৃত্তের বাইরে সর্বোচ্চ ৫ জন ফিল্ডার
  • ধীর ওভার-রেট হলে: বাকি ওভারে বৃত্তের ভেতরে একজন বাড়তি ফিল্ডার

পাওয়ারপ্লেতে ওপেনাররা যত বেশি বাউন্ডারি পান, পরের ১৪ ওভারে চাপ তত কমে। এটা এত সহজ, অথচ বেশিরভাগ দর্শক ৭ম ওভারে চোখ সরিয়ে নেন। আপনি কি তাদের একজন?

সুপার ওভার কীভাবে হয়?

ম্যাচ টাই হলে প্রতিটি দল একটি করে ওভার খেলে, আর সর্বোচ্চ দুই উইকেট পড়লে ইনিংস শেষ হয়। বেশি রান তোলা দল জিতে। সুপার ওভারও টাই হলে আইসিসির নকআউট ম্যাচে ফল না আসা পর্যন্ত আরও সুপার ওভার চলে। ছোট নিয়ম, কিন্তু ম্যাচ এখানেই শেষ হয়।

সুপার ওভারে প্রতিটি দল তাদের তিনজন ব্যাটার আর একজন বোলার বেছে নেয়। যে দল প্রথমে ব্যাট করে সে একটি লক্ষ্য ঠিক করে দেয়, পরে অপর দল সেটি তাড়া করে। ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আইসিসি বাউন্ডারি গণনার পুরোনো টাইব্রেকার বাদ দেয়, তাই এখন নকআউটে ফল না আসা পর্যন্ত খেলা চলে। এই নিয়মে ২ উইকেটের সীমা সবচেয়ে ছোট অথচ সবচেয়ে নির্মম: এক ওভারে দুটি আউট মানে ইনিংস শেষ, তাই ব্যাটাররা প্রথম তিন বলে ঝুঁকি নিলেও শেষ তিন বলে হিসাব করে খেলেন। দর্শক হিসেবে আপনি যদি এই চাপটা না বোঝেন, তাহলে একটি ডট বলের গুরুত্বও বুঝবেন না। [Internal Link: সুপার ওভারের স্মরণীয় ম্যাচ ও পরিসংখ্যান]

two batters shaking hands in the middle of the pitch during a tense super over under bright stadium lights

পরের ম্যাচের আগে প্রস্তুত থাকতে চাইলে এখানে ঢুঁ মারুন।

আরও জানুন

আসলে কী কাজ করে?

কাজে লাগে চারটি জিনিস: পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারের স্কোর, বোলারদের ৪ ওভারের কোটা কে কখন শেষ করছে, ওভার-রেট ও স্টপ ক্লক পরিস্থিতি, আর সুপার ওভারের নিয়ম। সহজ হিসাব, তবু বেশিরভাগ দর্শক এড়িয়ে যান। এগুলোই ম্যাচের মোড় ঘোরায়, বাকি সব গৌণ।

প্র্যাকটিক্যালি এই চারটি আপনি যেভাবে ব্যবহার করবেন, ধাপে ধাপে বলছি:

  1. প্রথম ৬ ওভারের শেষে স্কোর টুকে রাখুন। ৩৬ বলের এই সংখ্যাই ঠিক করে দেয় বাকি ১৪ ওভারে কতটা ঝুঁকি দরকার।
  2. প্রতিটি বোলারের ব্যবহৃত ওভার গুনুন। কারও ৪ ওভারের কোটা অবশিষ্ট থাকলে শেষ ওভারগুলোতে তার আসার সম্ভাবনা বেশি।
  3. ওভার-রেট দেখুন। পিছিয়ে থাকলে বাকি ওভারে বৃত্তের ভেতরে বাড়তি ফিল্ডার থাকবে, অর্থাৎ ব্যাটারের জন্য বাউন্ডারি সহজ।
  4. নো-বল দেখলেই পরের বলে ফ্রি হিটের কথা ভাবুন, আর মনে রাখুন রান আউট তখনও আছে।
  5. ম্যাচ ছোট হলে বোলারের কোটা ইনিংসের ওভারের এক-পঞ্চমাংশ ধরে নতুন করে হিসাব করুন।

এই পাঁচ ধাপ মানলে আপনি কেবল নিয়ম জানবেন না, নিয়মকে কাজে লাগাবেন। আর হ্যাঁ, ক্রিকেট ভক্ত-এ আমরা ম্যাচ পর্যালোচনা ও খেলোয়াড় পরিসংখ্যানে ঠিক এই ধরনের পাঠই দিই। এই চোখ তৈরি হয়ে গেলে ধারাভাষ্যকার কিছু বলার আগেই আপনি ম্যাচের গতি পড়ে ফেলবেন। বিশ্বাস করুন বা না করুন — আমি করি।

কী উপেক্ষা করবেন?

উপেক্ষা করুন নিয়ম নিয়ে গুজব, অনির্ভরযোগ্য সময়সীমার সংখ্যা এবং শুধু চার-ছক্কার ধারাভাষ্য-নির্ভর ভবিষ্যদ্বাণী। যাচাই না করা ক্লিপ আর বেনামি টিপস নিয়মের বিকল্প নয়; অফিসিয়াল প্লেয়িং কন্ডিশন আর ম্যাচের লাইভ স্কোরকার্ডই ভরসা। গুজবে কান দিলে ভুল হিসাব নিশ্চিত। এটাই সবচেয়ে সস্তা সতর্কতা, অথচ বেশিরভাগ মানুষ এটিই এড়ান।

বিশেষ করে এই বিষয়গুলোকে দূরে রাখুন:

  • সূত্র ছাড়া ‘৭৫ মিনিটের পর ছয় রান’ ধরনের দাবি
  • ফ্রি হিটে ‘কখনোই আউট হয় না’ ধরনের সরল বাক্য
  • পুরোনো ওয়ানডে নিয়ম টি২০-তে চালিয়ে দেওয়া
  • একটি ম্যাচের একটি ওভার দেখে পুরো সিরিজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া

আরও একটি কথা। ক্রিকেট নিয়ে কোনো নিয়ম বা বিশ্লেষণ ফলের নিশ্চয়তা দেয় না। আপনি যদি ম্যাচ নিয়ে বাজি ধরেন, স্থানীয় আইন ও বয়সসীমা মেনে চলুন, আর যতটুকু হারাতে রাজি ততটুকুই রাখুন। আমি বহু প্ল্যাটফর্মে খেলেছি; যে জানে কখন থামতে হয়, সে-ই টিকে থাকে। তাই সংক্ষেপে: তিনটি মিথ ভাঙলাম, পাঁচটি কাজের ধাপ দিলাম, আর বাকি গোলমালকে বিদায় জানালাম। এখন আপনার পালা। নিয়ম পড়ুন, ম্যাচ দেখুন, আর পরের বার নো-বল হলেই হাসুন, কারণ আপনি আগেই জানেন সামনে কী আসছে। [Internal Link: নতুন দর্শকদের জন্য টি২০ ক্রিকেট শুরুর গাইড]

আরও পর্যালোচনা, পরিসংখ্যান ও কৌশল চাইলে এই শেষ ধাপটি নিন।

আরও জানুন

fan holding a smartphone showing a live T20 scorecard while watching the match from the stands at dusk

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Q: টি২০ ক্রিকেট কী?

A: টি২০ হলো ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট জনপ্রিয় ফরম্যাট, যেখানে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ২০ ওভার ব্যাট করে। দুই দলে ১১ জন করে খেলোয়াড় থাকে এবং একটি ম্যাচ সাধারণত তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় শেষ হয়। ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডে শুরু হওয়া এই ফরম্যাট ২০০৫ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে। গতি, ছক্কা আর শেষ বলের নাটকই এর বড় আকর্ষণ।

Q: একটি টি২০ ম্যাচ কতক্ষণ চলে এবং ইনিংসের সময়সীমা কত?

A: ইনিংসের নির্ধারিত সময় সূত্রভেদে ৭৫ থেকে ৮৫ মিনিট, আর পুরো ম্যাচ সাধারণত তিন ঘণ্টার কিছু বেশি চলে। ৭৫ মিনিটে প্রতি ওভারে গড়ে ৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড পড়ে। সিরিজভেদে প্লেয়িং কন্ডিশন আলাদা হতে পারে, তাই নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টের নিয়ম আইসিসির সাইটে মিলিয়ে নিন।

Q: ফ্রি হিটে কীভাবে আউট হওয়া যায়?

A: ফ্রি হিটে সাধারণত শুধু রান আউট এবং মাঠে বাধা দেওয়ার মতো আউট সম্ভব। বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ ও স্টাম্পিং হয় না। বল স্টাম্পে লাগলেও বল লাইভ থাকে, তাই ব্যাটার বাই হিসেবে রান নিতে পারেন। তাই ফ্রি হিটে অতিরিক্ত নিশ্চিন্ত হলে একটি ভুল দৌড়ই আপনাকে আউট করতে পারে।

Q: টি২০ আর ওয়ানডের নিয়মে মূল পার্থক্য কী?

A: প্রধান পার্থক্য ওভারের সংখ্যায়: টি২০-তে ২০ ওভার, ওয়ানডেতে ৫০ ওভার। টি২০-তে বোলার সর্বোচ্চ ৪ ওভার করেন, ওয়ানডেতে ১০ ওভার। পাওয়ারপ্লেও আলাদা: টি২০-তে ৬ ওভারে ২ জন ফিল্ডার বৃত্তের বাইরে থাকেন। ফলে টি২০-তে আক্রমণ আগে শুরু হয় এবং ভুলের মূল্য অনেক বেশি।

Q: বৃষ্টিতে ম্যাচ ছোট হলে কী হয়?

A: ম্যাচ ছোট হলে ডিএলএস পদ্ধতিতে নতুন লক্ষ্য ঠিক হয়, আর ফল পেতে সাধারণত প্রতি দলকে অন্তত ৫ ওভার খেলতে হয়। বোলারের কোটাও নতুন ইনিংসের ওভারের এক-পঞ্চমাংশে নেমে আসে, যেমন ১০ ওভারে ২ ওভার। রাতে বৃষ্টি থামলে দ্রুত সিদ্ধান্ত হয়, তাই লাইভ স্কোরকার্ডে সংশোধিত লক্ষ্য দেখে নিন।

Q: টি২০ নিয়ম শিখতে কি কোনো খরচ লাগে?

A: না, টি২০ নিয়ম শেখা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আইসিসির ওয়েবসাইট, এমসিসির ক্রিকেট আইন এবং উইকিপিডিয়ার টুয়েন্টি২০ পাতায় সব নিয়ম খোলা আছে। ক্রিকেট ভক্ত-এর ম্যাচ পর্যালোচনাও দৈনিক আপডেট হয়। সপ্তাহে দুটি ম্যাচ দেখে স্কোরকার্ড মিলিয়ে নিলেই এক মাসে বেশিরভাগ নিয়ম আপনার আয়ত্তে চলে আসবে।

// End Of Briefing

Ready for the Next Mission?

ক্রিকেট ভক্ত · Intel Archive · No. 01

সম্পর্কিত নিবন্ধ